মা বাবার বাধ্য বোকা ছেলে যখন ডেটিংয়ে

মা বাবার বাধ্য ছেলে যখন ডেটিংংয়ে

 টাইটেল দেখে কি ভাবছেন? অসময়ে লকডাউন ভেঙে ডেটিংয়ে যাবে আমাদের প্রিয় হাবু দা?  পুলিশের লাঠির বারি আর সেনাবাহিনীদের হাতে কান ধরে উঠবস করার জন্য? মোটেও ভাইবেন না । ওওওওহ হো , যার ঘটনা তার তো পরিচয়টাই দেয়নি এখনো আপনাদের।

আপনার বন্ধুর সাথে ঘটে যাওয়া কিংবা কাল্পনিক ভাবে মনে হওয়া যেকোনো হাস্যকর ঘটনা পাঠাতে পারেন এই ইমেইলেঃ haissokor@aadharalo.com

আঁধার আলো ডট কম

 তিনি হলেন , আমাদের ন্যাবলা মার্কা হাবাগোবা হাবু দা । বন্ধু বটে কিন্তু সবাই আমরা আদর করে হাবু দা বলে ডাকি। বোকা হলেও হেব্বি ফ্রি মাইন্ডের আর মিশুকও বটে। তাই তো সবাই ওকে নিয়ে মজা করে, খেপায়ও কম নাহ । 

Advertisements

তবে, প্রচুর স্বাস্থ্য সচেতন একটা ছেলে  । করোনায় তো সচেতনার এক ফোঁটাও ঘাটতি পাবেন নাহ হাবু দা-র মধ্যে। কারো সাথে কথা তো দূরে থাক ঘর ছাড়া কিচ্ছু বুঝে নাহ আমাদের হাবু দা । 

বাহিরে যাক আর না যাক,  দিনে ৪ বার তো হাত স্যানেটাইজার দিয়ে ধুবেই,  না হলে সাবান তো আছেই। আর বাহিরে গেলে তো কথাই নেই ৷ ভিটামিন সি যে খাবারে আছে করোনায় তা সে খাবেই খাবে।

“ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন” করোনার এই স্লোগানটার মানে আমি হাবু দা-র কাছ থেকেই ভালোভাবে রপ্ত করেছি ৷ কিন্তু করোনায় তো মনটা খালি উড়ু উড়ু করে৷ 

তাই মনটাকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছি, আচ্ছা করে বলে দিয়েছি করোনায়  আপাতত চ্যাটিং লিস্টে থাক , শুয়ে থাক ও খাওয়া – দাওয়ার মধ্যে একটু বসে থাক ।

 চ্যাটিং এর কথা বলতে মনে পড়ে গেলো ,  বুঝেনই তো, কোয়ারেন্টাইন মন, একটু তো চ্যাটিং লিস্টে হাবু-দার সাথে মজা নিতে মন চাইবেই । উৎফুল্লে মনে হইতেছে হাবু দা কে মেসেঞ্জারেই চিল্লাইয়া ডাক দেই। কারন হাবু দা কে দেখলেই আমার চিল্লাইয়া ডাক দিতে মন চায় কেনো জানি। ভ্যাগিস ভিডিও কল এর অপশনটা ছিলো।  

বললাম… হাবু-দা, তোমার সেই ব্রেকআপ এর কাহিনীটা একটু বলবা?  হাবু দা ফ্রি মাইন্ডের আগেই বলেছি । তো আমি ভিডিও কল দিয়ে মনোযোগ দিয়ে হাবু-দার কথা শুনছি ৷

 হাবু-দা একদিন পড়ন্ত বিকেল বেলা,  নদীর পাশ দিয়ে রোমান্টিক মোড নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। মেয়েটির ডান হাতের কায়া-আঙুলের সাথে হাবু-দার বাম হাতের কায়া আঙ্গুল আলতো করে ধরে রেখেছে। হাবু দা বাবা-মার বাধ্যগত একমাত্র বোকা টাইপের ছেলে । 

মেয়েটির সাথে প্রেমের আলাপ করতে গিয়ে বলে ফেলে , ”মা-বাবা আমার গ্রহ আর তুমি আমার উপগ্রহ”  , ”মা-বাবা আমার ঘর-বাড়ি আর তুমি আমার টয়লেট” । বলতে বলতে হঠাৎ চেয়ে দেখি কখন যে সে আমার হাতটা ছেড়ে চলে গেছে টেরও পায়নি । এখনো পর্যন্ত তার সাথে আর কন্ট্রাক্ট করতে পারেনি আমাদের হাবু-দা । প্রতিবারের মতো ঘটনা শেষে একই বাক্য , কেন যে সে আমাকে ছেড়ে চলে গেলো বুঝতে পারলাম নাহ, এনিয়ে অনেক দুঃখ আমাদের হাবু দার । 

গল্প লেখক: অজিত মনি দাস