বুক রিভিউ । ”দ্যা কাইট রানার”

বুক রিভিউ । ”দ্যা কাইট রানার”

বইটির প্রেক্ষাপট  জুড়ে আছে আফগানিস্তানের কাবুল।বর্তমানে আফগানিস্তানের কথা শুনলেই চোখে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু বইটিতে সত্তর দশকের চিএ স্থান পেয়েছে যেখানে যুদ্ধ পূর্ববর্তী,বাসযোগ্য,নিরাপদ ও স্বাধীন এক আফগানিস্তানকে দেখানো হয়েছে,যা বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দুর্লভ।

কাবুলের অভিজাত ওয়াজির আকবর খান এলাকায় বাস করা কাবুলের ধনী ব্যবসাহীর মা হারা এক ছেলে আমির, তাদের ভৃত্যের ছেলে হাসান।হাসানের বাবা বহুকাল ধরে আঘা সাহেবদের(আমিরের বাবা)বাড়িতে কাজ করেন।

Advertisements

আমির ও হাসান তাদের দ্বিতীয় স্বত্বা। একই সীমারেখার মধ্যে বেড়ে ওঠা দুটি স্বত্বা আমির ও হাসান।একসাথে ঘুড়ি ওড়ানো,একই সাথে সিনেমা দেখা,খেলাধুলা করা সবই তাদের নিত্য দিনের অভ্যাস ছিলো।ছেলেবেলায় শুধু বন্ধুও নয় কিছু শত্রুও থাকে।হাসান আমিরের জন্য ছিল নিবেদিত প্রাণ।কিন্তুু আমির! কেমন ছিলো সে?সে কি আদৌও হাসানকে সাহায্য করেছে?নাকি তাকে বিপদে দেখে ফেলে এসেছে?

আঘা সাহেব আমিরের মতো হাসানকেও ভালোবাসত,এমন যে হাসান তার আরেকটা পুত্র। এটা আমিরের পছন্দ ছিলো না।হাসানকে বাড়ি থেকে বের করে দেবার জন্য সে তার জন্মদিনে তার বাবার থেকে পাওয়া ঘড়ি আর একটা খাম(টাকার) হাসানের ঘরে রেখে আসে।আলী চুরি অপবাদ সহ্য না করতে পেরে আঘা সাহেবের বাড়ি ত্যাগ করে।যদিও আঘা সাহেব তা চাইনি,অনেক কেঁদেছেন,বুঝিয়েছেন বাড়িতে থাকার জন্য।কেন তার এতো কান্না?আর এই একটা ভুলই কি আমিরের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করবে?নতুন একজন মানুষ হতে কি সাহায্য করবে?

তারপর কেটে গেছে কয়েকটি বছর।শুরু হয় আফগানিস্তানের যুদ্ধ। আমিরকে শরনার্থী হিসেবে  আঠারো বছর বয়সে পারি জমাতে হয়েছে আমেরিকাতে।আমেরিকায় কাটানো বিশ বছরের জীবনে সে বিয়ে করে সংসার পেতেছে।আটএিশ বছর বয়সে কোন অজানা সত্যি তাকে আফগানিস্তানে ফিরিয়ে এনেছে?কোন সত্যি হাসানের প্রতি তার ভালোবাসার জন্ম দিয়েছে?

অতীতের ভুলের সে কি প্রায়শ্চিত্ত করেছে?কাবুলের তালেবানে জমাট বিপদজনক জায়গায় পা রেখেছে?কেন সে হাসানের ছেলে সোহরাবকে আমেরিকায় নিয়ে আসার জন্য অগণিত বাঁধা পাড়ি দিয়েছে?এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অবশ্যই খালেদ হোসাইন এর  “দ্যা কাইট রানার” পড়তে হবে।এই উপন্যাসটিকে একটা ট্যাজেডি ক্ষেএ বললেও কোন ভুল হবে না।তাই পাঠকদের জন্য বলা,এ উপন্যাসটিতে ঘটনাগুলো এতটা সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছে যে না চাইলেই আপনার ভেতরটা কেঁপে উঠবে।তাই সময় পেলে এই অসাধারণ হৃদয়গ্রাহী এক বন্ধুত্বের গল্পের বইটি পড়ে ফেলতে পারেন।

লেখকঃ খালেদ হোসাইনী

প্রকাশনাঃ রিভারহেড বুকস

প্রকাশকালঃ ২৯ মে ২০০৩

পাতা সংখ্যাঃ ৩৭২

বাংলা অনুবাদঃ শওকত উসমান

  • বুক রিভিউ লেখক :  সামিয়া আফরোজ ইভা
শিক্ষার্থী,কৃষি অনুষদ,হাবিপ্রবি