ডায়মন্ডের চেয়েও দামি কেনো সাপের বিষ? 

ডায়মন্ডের চেয়েও দামি কেনো সাপের বিষ? 

সাপের কথা শুনে আতকে উঠেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর, নাই বললেই চলে। আবার সাপ দেখে ভয়ে পালাবেন না এমন সাহস কারো নেই। কিন্তু সেই সাপের বিষই যখন খাটি সোনা থেকে দামি তখন তো চোখ কপালে উঠার মতো দশা হবেই। যেখানে ১ কেজি স্বর্নের দাম মাত্র ৪৫ লক্ষ টাকা,  সেখানে ১ কেজি সাপের বিষের দাম ২৫ কোটি টাকার উপরে। এছাড়াও সাপের জাত অনুযায়ী বিষের দামও ভিন্ন হয়ে থাকে।

 

Advertisements

যেমন, কালাচ বা কালচিতি সাপের প্রতি গ্রাম বিষের মূল্য তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা, খয়া গোখরার ৫০ হাজার টাকা এবং সামুদ্রিক সাপের বিষের মূল্য চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে সাপের বিষের প্রচুর চাহিদা। আর এ জন্যই সাপের বিষ বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে অনেকে। তবে সাপের বিষ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে মহামূল্যবান সাপের বিষ। 

 

কিন্তু মাথায় এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, সাপের এই বিষ দিয়ে কি করে?  যে সাপের বিষের এতো দাম। তাও আবার ডায়মন্ডের মতো। অনেক সাপের বিষের দাম তো ডায়মন্ডের দামকেও ছাড়িয়ে যায়। 

 

সাপের বিষ ব্যবহার করা হয় যে যে কাজে, তারমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ঔষধ শিল্পে এর ব্যাপক চাহিদা। অনেক জটিল জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য যে দামি ঔষধ প্রয়োজন তা সাপের বিষ দিয়েই তৈরি হয়। ক্যান্সার, হার্টের জনিত জটিল রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য ঔষধ সাপের বিষ দিয়ে তৈরি করা হয়। এছাড়াও সাপে কাটা রোগীদের জন্যও যে এন্টিভেনম তৈরি করা হয় তাও আসে সাপের বিষ থেকেই। একটি এন্টিভেনমের দাম ১৫০০-১৬০০ ডলারের মতো। সাপের বিষ দিয়েই তৈরি করা যাবে রক্ত জমাটবাঁধা প্রতিহত করার নতুন ঔষধ। 

 

  • সাপের বিষে যদি মানুষ মারা যায় তাহলে ঔষধ বানায় কিভাবে?

সেই ঔষধ খেলেও তো মারা যাওয়ার কথা আপনার মনে প্রশ্ন জানতেই পারে।  সাপের বিষে থাকে হাজার হাজার মলিকিউল বা অনু। সবগুলো অনু কিন্তু বিষাক্ত নয়। কিছু উপাদান রক্ত জমাটবাঁধতে সাহায্য করে, আবার অল্প কিছু উপাদান ঠিক তার বিপরীত কাজ করে রক্ত জমাটবাঁধতে প্রতিহত করে।

 

শুধু কি ঔষধ তৈরিতে সাপের বিষ ব্যবহার হয় বলেই কি সাপের বিষের এতো দাম। না, সাপের বিষ দিয়ে নেশাও করা হয়। আমাদের দেশে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, ঘুমের ও ব্যথানাশক ওষুধ (প্যাথেডিন ও মরফিন) এখন বহুল ব্যবহৃত মাদকদ্রব্য যা সহজলভ্য। কিন্তু নেশার এ রাজ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে সাপের বিষ। আগে বিদেশে দেখা যেত, জিহবায় সাপের ছোবল দিয়ে নেশা করতো নেশাগ্রস্তরা।  বাংলাদেশেও এইরকম নেশা করার দৃশ্য নজরে পড়েছে। আর চরম মূল্যে কিনতে হয় সাপের বিষ দিয়ে বানানো মাদক। যা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে সাপের বিষের ব্যবহার বিদেশী মাদকের মধ্যেও। আর হু হু করে বাড়তেই থাকে সাপের বিষের দাম। 

 

  • আঁধার আলো/এএমডি