জিপিএ ৫ না পেলে কি আসলেই জীবন বৃথা?

আমাদের দেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মাপকাঠি হিসাবে জিপিএ ৫ পাওয়াকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। নিঃসন্দেহে জিপিএ ৫ পাওয়া অনেক কঠিন, জিপিএ ৫ পাওয়া গর্বের বিষয় এবং ক্যারিয়ার গড়তেও জিপিএ ৫ এর অবদান আছে।
কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেখলে মনে হয় জিপিএ ৫ না পেলে জীবন বৃথা হয়ে গেলো। এই একটি দৃষ্টিভঙ্গির কারণে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে।
আমি নিম্নে প্রমাণ করেছি জিপিএ ৫ না পেলে কেন জীবন বৃথা হয়ে যায় না। আমার আলোচনা নিম্নরূপ:
১. জিপিএ ৫ না পেয়েও আপনি অধিকাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন: বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য যে জিপিএ ৫ না পেয়েও আপনি দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন এবং ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলে আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে ভর্তিও হতে পারবেন।
২. জিপিএ ৫ না পেয়েও আপনি বিদেশে স্কলারশিপ পেতে পারেন: কথাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই বাস্তবতা। আপনি জিপিএ ৫ না পেয়েও দেশের বাইরে আপনার পছন্দের শিক্ষা ভর্তির সুযোগ পাবেন যদি না আপনি ওই প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য সকল শর্ত পূরণ করেন।
৩. জিপিএ ৫ না পেয়েও আপনি বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন: জিপিএ ৫ না পেলেও আপনি বিসিএস দিতে পারবেন। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে আপনাকে এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্টের কথা জিজ্ঞেস করা হবে না। বিসিএস পরীক্ষায় আপনি ভালো ফলাফল করলে আপনার পছন্দের ক্যাডার সার্ভিসেই যেতে পারবেন।
৪. আপনি মাত্র একটি জিপিএ ৫ পেয়েও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা হতে পারবেন: এসএসসি ও এইচএসসি প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ থাকলে নিঃসন্দেহে সেটা ভালো। তবে যদি কোনো একটি পরীক্ষায় আপনি জিপিএ ন্যূনতম ৪.৫০ পান তবুও আপনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো শাখায় (সেনাবাহিনী/ নৌ-বাহিনী/ বিমানবাহিনী) অফিসার পদে পরীক্ষা দিতে পারবেন যদি অপর পরীক্ষায় আপনার জিপিএ ৫ থাকে। ( এই নূন্যতম নম্বর অবশ্য পরিবর্তনশীল)
তাই জিপিএ ৫ না পেলে হতাশ না হয়ে সাহসের সাথে সামনে এগিয়ে যান। পড়াশোনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। পরিকল্পনা করে পরিশ্রম করুন। নিজের ভূল থেকে শিখুন। নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকুন। লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে হয় আবার চেষ্টা করুন বা লক্ষ্য পরিবর্তন করুন।
জীবন বাইসাইকেলের মতোন। সাইকেল যেমন থেমে গেলে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে পরে যায় ঠিক তেমনিভাবে আপনাকেও জীবনে থামা যাবে না। আপনাকে বাধা পেরিয়েই সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। তাহলেই একদিন সফল হবেন।
লেখক: S.M Muhaimin Raihan