উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

যখন আপনি অন্য একজনকে বলতে পারবেন জোড় গলায় হ্যাঁ, আমি একজন সফল উদ্যোক্তা । তখন বুঝবেন আপনার সর্বোচ্চ লক্ষ্যে আপনি পৌঁছে গেছেন । তবে এ কথা শুধু চিন্তা করলে হবে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন না দেখে বাস্তব ও লক্ষ্যের পিছনে ছুটতে হবে। এ জন্য একটি প্লাটফর্ম নির্বাচন করা প্রথম কাজ। আর এটি নিয়েই বেশির ভাগ মানুষ টেনশনে(Depression) ভোগে। তাই, উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ৫ টি ব্যবসার আইডিয়া,  আলোচনা করবো। 

 এর সমাধান হিসেবে আমরা কয়েকটি ব্যবসার (Some item of business idea for entrepreneur)    নাম ও বিবরন দেওয়ার চেষ্টা করবো। যেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দের ব্যবসা( Business) সহজেই বাছাই করতে পারবেন।   

Advertisements

#তবে এর আগে  উদ্যোক্তা সম্পর্কে কিছু কথা ও প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনা তুলে ধরি  – 

উদ্যোক্তা শব্দটা ছোট হলেও এর বিস্তার কিন্তু অনেক বড়। উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক টাকা-পয়সার মালিক হতে হয়না। যে কেউ, যে কোনো সময়, যে কোনো মুহূর্তে,   উদ্যোক্তা হতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনার কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য প্রয়োজন। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে বেছে নিতে হবে একটি প্লাটফর্ম। এমন নয় যে, অন্য কেউ যে বিষয়ে ব্যবসা করে বা এই ব্যবসা করে বড় কিছু হয়ে গেছে আর আমাকেও সেই ব্যবসাই করতে হবে। মূল লক্ষ্যে,  উদ্যোক্তা হলো নতুন কোনো কন্সেপ্ট, নতুন কোনো বিষয় নিয়ে এগোনো।

উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ৫ টি ব্যবসার আইডিয়া। তাই, আপনার যে বিষয়ের উপর দক্ষতা ও অধিক আগ্রহ আছে, সেই বিষয়কে উদ্যোক্তা হওয়ার প্লাটফর্ম বানাতে পারেন। তাহলে দেখবেন,৷ আপনার কঠোর পরিশ্রম আর মেধা মিলে মিশে আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাবে। পৃথিবীতে যত বড় বড় স্বনামধন্য মানুষ ও ধনী ব্যক্তি দেখবেন, তাদের সবাই ছিলেন উদ্যোক্তা ও নতুন আইডিয়ার বাস্তবায়ক।  

কাদের উদ্যোক্তা হওয়া সহজ?  আমার কি উদ্যোক্তা হওয়া সহজ? আমি যে পরিস্থিতিতে আছি আমার কি করা সম্ভব? 

আসলে প্রশ্নটা প্রায় সব মানুষই করে থাকে। যে উদ্যোক্তা হতে চায়, তার এই কথাটা আগে মাথায় আসে। আসলে যেভাবে আপনারা ভাবেন, বিষয়টি তেমন নয়। আগে উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া জানুন। এছাড়া,  আপনাদের প্রশ্নের মধ্যে থাকে, সে তো অনেক বেশি পড়াশোনা করেছে ওনার তো উদ্যোক্তা হওয়া সহজ।

আবার অনেকে বলেন, সে তো পড়াশোনা করে না, তার অবসর সময়ের অভাব নেই, তার তো উদ্যোক্তা হওয়া সহজ। আমার তো পড়াশোনা আছে, সময়ই তো পাই না৷ আসল কথা বলতে গেলে এগুলো অজুহাত ছাড়া কিছুই না। আপনার যদি ইচ্ছা এবং প্রবল আগ্রহ থাকে তাহলে আপনাকে দ্বারাই সম্ভব। 

আপনি পড়াশোনা করছেন, কিভাবে উদ্যোক্তা হবেন?

ব্যবসা করতে অথবা অন্য আর যায় ই করেন। মনে রাখতে হবে সব সেক্টরে কিন্তু সমান পরিশ্রম না । এমন অনেক সেক্টর আছে যেখানে আপনার মেধার প্রাধান্যই বেশি। তাই আপনার জন্য পরামর্শ থাকবে,  এমন একটি সেক্টর নির্বাচন করুন যেখানে আপনার সময় কম দিলেও চলবে। আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে আপনার স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। 

 পুঁজি ছাড়া বা অল্প পুঁজিতে কি কি ব্যবসা করে বেশি আয় করতে পারবেন। আর উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া এর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-  

#১) কোচিং এর বিজনেস 

আসলে অনেকে ভাবছেন কোচিং আবার ব্যবসা কেনো হবে। তবে যেটি আপনি টাকা উপার্জনের জন্য করবেন সেটিই ব্যবসার আওতায় পড়বে। তবে, শিক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে হবে। ভালো শিক্ষা দিতে পারলে ও ভালো গাইডলাইন দিতে পারলে আপনার কোচিং টপে থাকবেই। শুরু করার জন্য, প্রথমে কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি পরিকল্পনা করতে পারেন। কোথায়, কিভাবে দিলে কোচিং টি ভালো চলবে।

স্টুডেন্ট পাওয়ার জন্য আপনাকে লিফলেট, অনলাইন মার্কেটিং করতে হবে। প্রথমে, পঞ্চম শ্রেণী (class-5)  হতে দশম শ্রেণী (class-10) পর্যন্ত স্টুডেন্ট নিয়ে কোচিং শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে কলেজের স্টুডেন্ট এড করতে পারেন। উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়ার মধ্যে এটি একটি।

#২) আমদানি ( ইম্পোর্ট-Import) ও রপ্তানি (ইক্সপোর্ট-Export)  এর বিজনেস – 

উদ্যোক্তা (uddokta) হওয়া সহজ নয় আবার কঠিনও নয়। তবে আপনার চাই সঠিক দিক নির্দেশনা। যারা জীবনে চ্যালেঞ্জ নিতে জানে, ঝুঁকি নিতে জানে এবং তার বুদ্ধিতেই সব হবে এটা ভাবে, তারাই শুধু উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে ভাবে ।

উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ৫টি ব্যবসার আইডিয়া

যাদের পুঁজি সামান্য কিন্তু পরিশ্রম ও মেধাকে কাজে লাগাতে চান, তাদের জন্য আমদানি-রপ্তানি উপযোগী একটা ব্যবসা। বাংলাদেশের অনেক পণ্য বাইরের দেশে ভালো চলে, তাই সেইসব পণ্য রপ্তানি করতে পারেন। আবার বাংলাদেশের বেশিরভাগ পণ্য বাইরের দেশ থেকে আসে। তাই সে পণ্য আমদানি করে আপনার ব্যবসাকে বড় ব্যবসায় পরিণত করতে পারেন।

আর হ্যাঁ, সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, যে  এ ব্যবসা শুধু বড় বড় কোম্পানি ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের। সত্যিকার অর্থে এ ব্যবসা ছাত্র-ছাত্রী,কর্মরত চাকুরিজীবী, যে কোনো পেশার মানুষ করতে পারেন। তবে এ ব্যবসার ঝুঁকি আছে, তবে যদি কেউ না বুঝে ব্যবসা করেন। কোনো ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে নিঃস্ব করে দিতে পারে। আবার এ ব্যবসা সঠিকভাবে করতে পারলে কয়েক বছরে মধ্যেই বড় ব্যবসায়ী হতে পারবেন এটি নিশ্চিত। এটিও উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়ার মধ্যে আরেকটি। 

আমদানিজাত পণ্য

কোন পণ্য আপনি আমদানি করবেন তা বাঁছাই করতে হবে। আমদানিজাত পণ্যের তালিকায়  আছে নির্মানসামগ্রী, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসামগ্রী, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশন, ওভেন, রেফ্রিজারেটর সহ গৃহসামগ্রী, ওষুধ, খনিজতেল, ভোজ্যতেল, চর্বি, খাদ্যশস্য, শিশুখাদ্য ইত্যাদি। 

রপ্তানিজাত পণ্য

আর রপ্তানির তালিকায়- পোশাক,ওষুধ, পাট, চা, চামড়া, পাটজাত দ্রব্য, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, রকমারি ফুল ইত্যাদি। 

আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন সহজলভ্য ও ঝুঁকি কম

আর আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনের সাথে ব্যবসা করতে পারেন। চীনের সাথে ব্যবসা করার ঝুঁকি কম ও ভালো লাভজনক। যেকোনো পণ্য আপনি স্বল্প মূল্যে ক্রয় করতে পারেন। অনেকেই একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন ও সবশেষ এ ব্যবসার চিন্তা মাথা থেকে বের করে দেন। তবে এর তা না করে, আগে প্রয়োজন উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া।

আর এছাড়া আপনার চিন্তাগুলো যদি তুলে ধরি তা হলো – চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করবো কিভাবে?  পেমেন্ট করবো কিভাবে? পণ্যের সঠিক মূল্য জানা ও সেটি সঠিক চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়ে আসবো কিভাবে? এলসি সহ বিভিন্ন জটিলতায় ভোগেন। তবে এর সমাধান হিসেবে অনেক সংস্থা ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কাজ করে থাকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।    

#৩) অনলাইনে ব্লগ ( Online Blog) লিখে আয় –

আপনার যদি লেখালেখির দক্ষতা থাকে, তবে এখন আর বসে থাকা নয়। এখনই কাজে লাগান আপনার লেখার দক্ষতা। আর মাসে মাসে আয় করুন বিপুল পরিমান অর্থ। বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইট আছে, যারা একটি আর্টিকেল লিখে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দিয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন ধরনের বড় বড় কোম্পানির তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে তাদের ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকে। এর বিনিময়ে ভালো অংকের টাকা দিয়ে থাকে। এভাবে আপনি আপনার লেখনীশক্তিতে আয়ে পরিণত করতে পারেন।  

#৪) ব্যবসার পরিকল্পনা লেখক (Business Plan Writer)  হিসেবে আয় –

উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া এর মধ্যে এটি একটি চমৎকার ব্যবসা। বিভিন্ন সেক্টরে আপনার লেখার দক্ষতা কাজে লাগান। আর আয় করুন। আপনার মধ্যে যদি সৃজনশীলতার ভালোই জ্ঞান থাকে, তবে সেটিকে পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করতে কাজে লাগান। একটি ব্যবসা কিভাবে ভালো মুনাফা আয় করতে পারে বা কিভাবে অন্যান্য কোম্পানিকে পিছনে ফেলে শীর্ষে যেতে পারবে তার একটি পরিকল্পনা আর্টিকেল আকারে লিখে বিপুল পরিমাণ আয় করতে পারেন। 

#৫) ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) হিসেবে আয় –

বিশ্বের পুঁজি ছাড়া সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয় ফ্রিল্যান্সিংকে । এর মাধ্যমে আপনি মাসে ১ লক্ষ টাকার উপরে ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এ যেখানে বিনিয়োগ নেই তাই আপনার ঝুঁকি কম। উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল ব্যবসার আইডিয়া এর মধ্যে এটিকে ১ নাম্বারে রাখতে পারি। আপনি এর জন্য প্রথমে ফ্রিল্যান্সিং এর উপর একটি কোর্স করে নিতে পারেন। 

 ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসগুলো  হলো A# ফাইভার ( Fiverr.Com) B# আপওয়ার্ক ( Upwork.Com) C# ফ্রিল্যান্সার ডটকম (Freelance.Com) D# গুরু (Guru.Com)  E# টপটল (Toptal.Com) । 

আপনি কি ফ্রিল্যান্সার করতে চাচ্ছেন?  তাহলে আর দেরি নয় এখনই নিচের দেওয়া যেকোনো একটি বিষয়ে কোর্চ করতে পারেন। তবে হ্যাঁ দুই নৌকায় পাড়া দেওয়ার চেয়ে নিচের দেওয়া কোর্সের যেকোনো একটি বিষয়ে পরিপূর্ণ দক্ষ হয়ে উঠুন- 

#গ্রাফিক্স ডিজাইন( Graphics Design) : বিভিন্ন ধরনের ব্যানার তৈরি, লোগো বানানো সহ বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ এর আওতায় পড়ে। আর ব্যানার ও লোগো তৈরির জন্য দেশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হায়ার করে থাকে। 

#ডিজিটাল মার্কেটিং( Digital Marketing): বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়াক ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে পণ্য বা সেবার মান পরিচালনা করা। এছাড়া একটি ওয়েবসাইটের এসইও, মেটা ট্যাগ, কি-ওয়ার্ড,  র‍্যাঙ্কিংও এর আওতায় পড়ে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর পরিধি বিশাল। 

#আর্টিকেল রাইটিং (Article Writing): আপনার লেখালেখি দক্ষতা এখানে কাজে লাগাতে পারেন। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন কোম্পানি আর্টিকেলের জন্য লোক হায়ার করে। 

#ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ( Web Design and Developmen)   : আজকাল প্রায় প্রত্যেক ছোট-বড় কোম্পানির জন্য ওয়েবসাইটের প্রয়োজন হয়। আর তাই, এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারলে কাজের অফারের অভাব হবে না। 

#ভিডিও এডিটিং এন্ড এ্যানিমেশন ( Video Editing and Animation)  : অনলাইন বা অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক চাহিদা আছে। আপনি ভিডিও এডিটিং এ পারদর্শী হয়ে উঠতে পারবেন খুব সহজে যদি একটু চেষ্টা করেন। তবে অন্যান্য কোর্সের চেয়ে এ কোর্স বেশি সহজ না হলেও একটু সহজই বলা যায়।         

আরো পড়ুন>>> বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
করোনা ভ্যাকসিন বাজারে কবে আসবে

মেয়েদের সাজ নিয়ে রহস্য! মেয়েদের কোন কোন সাজ ছেলেদের পছন্দ